1. eliusmorol@gmail.com : দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ : দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ
  2. rahadbd300@gmail.com : rahad :
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

✒স্টোরেজ ডিভাইস(ফ্লপি ডিস্ক,হার্ড ডিস্ক,সিডি রম)?

মো: ইলিয়াস হোসেন
  • সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
  • ১৩২৯ বার সংবাদ টি দেখা হয়েছে

✒ষ্টোরেজ ডিভাইস(ফ্লপি ডিস্ক,হার্ড ডিস্ক,সিডি রম)?

⇨সম্পাদনায়ঃ মোড়ল মোঃ ইলিয়াস হুসাইন

সাধারণত মেমোরি বলতে কম্পিউটার ব্যবহারকারীগণ র‌্যামকেই বুঝিয়ে থাকে। মেমোরি, ইনপুট, আউটপুট এবং ঈচট থাকলেই কম্পিউটার কাজ করতে পারে। তবে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম ফাইল এবং উহার সাথে সংশ্লিষ্ট ডাটা যখন ব্যবহৃত না হয় তখন একটি জায়গায় ঐ প্রোগ্রাম ও ডাটা সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজন হয়। যে সকল মাধ্যমগুলির মাধ্যমে প্রোগ্রাম ও ডাটা দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারে এবং প্রয়োজনে মেমোরিতে উত্তোলন করে কাজ করতে পারে তাদেরকে ষ্টোরেজ ডিভাইস বলা হয়।
ষ্টোরেজ ডিভাইস ও মেমোরির মধ্যে প্রধাণ তিনটি পার্থক্য হলোঃ
ক) মেমোরি অপেক্ষা ষ্টোরেজ ডিভাইসের ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশী।
খ) কম্পিউটার বন্ধ করা হলে মেমোরির ডাটা মুছিয়া যায় কিন্তু ষ্টোরেজ ডিভাইসের ডাটা সংরক্ষিত থাকে।
গ) মেমোরি অপেক্ষা ষ্টোরেজ ডিভাইস দামে সস্তা।
বর্তমানে ম্যাগনেটিক ও অপটিক্যাল এ দুই উপায়ে ষ্টোরেজ ডিভাইসে ডাটা সংরক্ষণ করা হয়। কোন কোন সিষ্টেম ম্যাগনেটিক কোনটি অপটিক্যাল কোনটি আবার উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে ডাটা সংরক্ষণ করে।
প্রধাণ প্রধাণ ম্যাগনেটিক ষ্টোরেজ ডিভাইস গুলি হলোঃ খ) ফ্লপি ডিস্ক বা ডিস্কেট গ) হার্ড ডিস্ক ঘ) ম্যাগনেটিক টেপ প্রধাণ প্রধাণ অপটিক্যাল ষ্টোরেজ ডিভাইস গুলি হলোঃ ক) সিডি রম খ) ডিভিডি গ) ওয়ার্ম ড্রাইভ ঘ) ফেজ-চেঞ্জ রিরাইট্যাবল ডিস্ক ঙ) ম্যাগনেটো অপটিক্যাল ডিস্ক চ) ফ্লপটিক্যাল ড্রাইভস্ ফ্লপি ডিস্ক

ফ্লপি ডিস্কঃ-

কম্পিউটারের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম হলো ফ্লপি ডিস্কেট। ফ্লপি-ডিস্ক হচ্ছে এক ধরনের বহনযোগ্য ষ্টোরেজ ডিভাইস। ফ্লপি-ডিস্ক মাইলার প্লাষ্টিকের তৈরী গোলাকার চাকতি বিশেষ এই চাকতির উপর চৌম্বক পদার্থের (আয়রন-অক্সাইড) প্রলেপ দেওয়া থাকে। চকতিটি একটি প্লাষ্টিক বা কার্ডবোর্ডের জ্যাকেটে রক্ষিত থাকে ডিস্কটি যাতে জ্যাকেটের মধ্যে সহজেই ঘুড়াতে পারে সেজন্য ইহার অভ্যন্তর ভাগে পিচ্ছিল তরল পদার্থের প্রলেপ দেওয়া হয়। জ্যাকেটটি ডিস্ককে বাহিরের আঘাত এবং ধুলো-বালি হতে রক্ষা করে। গোলাকার ডিস্কটি অত্যন্ত পাতলা এবং বাকানো যায়।

হার্ড-ডিস্ক ড্রাইভঃ-

বৃহৎ আকৃতির ডাটার ক্ষেত্রে বিশ্ব এখন অপটিক্যাল মাধ্যমের দিকে ধাবিত হলেও পারসোপনাল কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় হার্ড ডিস্ক। এটি একটি দির্ঘস্থায়ী ষ্টোরেজ মিডিয়া হিসেবে কাজ করে। মেগাবাইট থেকে গিগাবাইট পর্যন্ত তথ্যের বিশাল ভান্ডার একটিমাত্র হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এই ডিস্ক ম্যাগনেটিক ধাতুর তৈরী এক কেন্দ্রীক কতগুলি গোলাকার চাকতি নিয়ে গঠিত। যার তুলনা দেয়া চলে গ্রামোফোনের রেকর্ডের সাথে। এ চাকতিগুলিকে প্লটার বলা হয়। প্রতিটি প্লটারের উপরে এবং নীচে একটি করে হেড থাকে। হেড গুলি একটি আর্ম এর সাহায়্যে নিয়ন্ত্রিত। এই ডিস্কের ম্যাগনেটাইজড পয়েন্ট দিয়ে ১ আর নন-ম্যাগনেটাইজড পয়েন্ট দিয়ে ০ বোঝানো হয়। এভাবে বাইনারী পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষিত হয়। এই ডিস্কে সমকেন্দ্রিক অনেকগুলো ট্র্যাক থাকে। প্রতিটি ট্যাকে আবার ১০০ থেকে ১০০০ বা তদুর্ধ্ব ভাগে ভাগ করা হয় । প্রতিটি ভাগকে বলা হয় সেক্টর। ডিস্কটি প্রচন্ড গতিতে ঘুরতে থাকে এতে তথ্য যে ট্র্যাকের যে সেক্টরেই থাকুক না কেন, মুহুর্তেই তা সনাক্ত হতে পারে। একটি ডিস্কের ঘূর্ণন গতি সাধারনত ৩৬০০ থেকে ৭২০০ আরপিএম।
কোয়ান্টাম, ফুজিৎসু, হিটাচী, মাইক্রোপলিস, এনইসি, মিতসুবিসি, সীগেট, সনি, তোসিবা প্রভৃতি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন মডেলের বিভিন্ন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হার্ডডিস্ক বাজারে পাওয়া যায়। যদিও শুধু হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়না, ড্রাইভ সমেত পাওয়া যায়। ড্রাইভ সমেত হার্ডডিস্ককেই হার্ডডিস্ক নামে ডাকা হয় যদিও তা ঠিক নয়।

সিডি-রমঃ-

১৯৮৭ সালে সনি কোম্পানি সিডি রম ড্রাইভ বাজারে ছাড়ে যা কিনা কম্পিউটার এর তথ্য সংরক্ষনে এক স্বর্ণ দূয়ার খুলে দিয়েছে। ইহা বর্তমানে সফ্টওয়্যার শিল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেছে। সিডি রম একটি প্লাষ্টিকের শক্ত চাকতি যাতে শক্তিশালী লেজার আলোর সাহায্যে তথ্য লেখা হয়। হার্ড ডিস্ক বা ফ্লপি ডিস্কের মত এতে সংরক্ষিত তথ্য মুছে আবার নতুন তথ্য লেখা যায় না। একবার একটি সিডি রমে তথ্য লেখা হলে একটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের সাহায্যে তা শুধু পড়া যায়, আর এতে সংরক্ষিত তথ্য পরিবর্তন করা যায়না ।
সচারাচর একটি সিডি রম ১.২ মি.মি. পূরুত্ব এবং ১২০ মি.মি. ব্যাসের হয়ে থাকে আর ৬৮০ মেগাবাইট আকৃতির তথ্য জমা বা সংরক্ষন করতে পারে। সিডি-রমের নিচে এলুমিনিয়ামের একটি পাতলা লেয়ার থাকে যাতে আলো প্রতিফলিত হয়। এতে অনেকগুলো পেচানো ট্রাক থাকে যা ডিস্কের কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে চক্রাকারে ঘূরে পরিধির আগ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। শক্তিশালী লেজার আলোর সাহায্যে সিডির প্রতিফলিত তলে অতিক্ষুদ্র অনুবিক্ষনিক সিডি পদ্ধতিতে তথ্য লেখা হয়। একেকটি ছিদ্র অর্থাৎ পিট (চরঃ) ‘১’ এবং ছিদ্রবিহীন স্থান অর্থাৎ ল্যন্ড কে ‘০’ দ্বরা প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি ছিদ্র প্রায় ০.০১২ মাইক্রোন গভীর এবং ০.৬২ মাইক্রোন প্রসস্ত হয়। যা প্রতিটি পেচানো ট্রাকে খোদাই করা থাকে। দুটি পেচানো ট্রাকের মাঝে প্রায় ১.৬ মাইক্রোন স্পেশ থাকে। প্রতি ইঞ্চিতে সধিারনত ১৬০০০ ট্রাক থাকে। ডিস্কের পরিধি থেকে ৫মি.মি. ভিতরের দিকে ট্রাকের সমাপ্তি ঘটে। এই প্যাচানো ট্রাক প্রায় ৩ মাইল লম্বা হয়।

(চলবে)

স্যোসিয়াল মিডিয়াতে শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর...