1. eliusmorol@gmail.com : দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ : দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ
  2. rahadbd300@gmail.com : rahad :
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

।।দিঘলিয়া বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতাঃ তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক অনিয়ম।।

মো: ইলিয়াস হোসেন
  • সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০
  • ৭৫২ বার সংবাদ টি দেখা হয়েছে

।।দিঘলিয়ার বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতাঃ
তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক অনিয়ম।।

।।দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ বিশেষ প্রতিনিধি।।

দিঘলিয়া উপজেলা সদরে নেই কোন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবাও পাচ্ছে না। এ বিষয়ে গতকাল (১৬ মার্চ) দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ দপ্তরে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, পথের বাজার থেকে আগত কয়েকজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (দিঘলিয়া উপজেলা হাসপাতাল) চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে একজন (অভিযোগকারী) ওমেন্স ডিজেজে আক্রান্ত, যার জন্য তিনি বহির্বিভাগ থেকে টিকিট কাটেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ড (ডাক্তার চেম্বার)। ওখানে যাওয়ার পর দেখা যায় ডাক্তার ফোনে কথা বলছেন, উনি রুগী দেখবেন না। ঐ ডাক্তার পুনরায় ১১২ নম্বর ওয়ার্ডে (রুম) রেফার করেন, সেখানে যেয়ে দেখেন ওখানে একজন “শিশু ডাক্তার ” বসে আছেন। ঐ ডাক্তার বলেন, আমি শিশুদের চিকিৎসা করি (শিশু বিশেষজ্ঞ) অথছ প্রয়োজন ছিল গাইনেকোলজি ডাক্তারের। পূর্বে যে ডাক্তার রেফার করেছেন, উনি কি জানতেন না “রুগীর প্রয়োজন গাইনী ডাক্তার? “

যাইহোক পরিশেষে “১১২ নম্বর ওয়ার্ড ডাক্তার (শিশু) পুনরায় রেফার করেন ১১১ নম্বর রুমে। ঐ রুমে যেয়ে দেখা গেল একজন মহিলা ডাক্তার। তিনি রুগীর (অভিযোগকারী) স্লিপ,কাগজপত্র দেখে ১০ মিনিট পরে আসার কথা বলে দরজার কাছে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখা যায় নির্দিষ্ট ডাক্তারদের স্টাফদের ভিতর (মুখচেনা) রুগীদের এক এক করে রুমে ঢুকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথছ ১০ মিনিটের যায়গায় ভুক্তভোগী রুগী ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে চিকিৎসা না নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।

★প্রশ্ন (?)

*রেফারেন্সর ডাক্তার কি অনভিজ্ঞ? উনি কি জানেন না কে গাইনী কে শিশু বিশেষজ্ঞ এবং কোন রুমে বসেন? *সরকারি হাসপাতালে কেন এই দূর্নীতি,স্বজনপ্রীতি? *সরকার কি এদের বেতন দেয় না?

*প্রশ্ন বিদ্ধ তীর কি এহেন ডাক্তারদের মনে কি ক্ষতের চিহ্ন আঁকেনা?

*প্রশাসন কবে কখন দেখে প্রতিকার করবেন- সেটার ই দেখার অপেক্ষা!

সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সেখানে হয় না। এজন্য ওই এলাকার রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে শহরকেন্দ্রিক। এমনকি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যেই দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। যেগুলোর অবস্থান ফুলবাড়িগেট এলাকায়। কুয়েট গেটের আশপাশে ও কুয়েট রোডে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ করতে হয় দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে। এজন্য অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। যদিও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুল আলম বলেন, এতে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না। প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পাশাপাশি উপজেলার আওতাধীন দু’টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রও খুলনায়। একটি দৌলতপুরে এবং একটি আড়ংঘাটায়। নদী পার হয়ে বিশেষ করে অন্য একটি প্রশাসনিক এলাকায় গিয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠান তদারকি করা কতটা যৌক্তিক তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, অন্তত সাতটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার খুলনা শহরে স্থাপিত হওয়ায় এসবের প্রতি সব সময় নজরদারি করাও সম্ভব হয় না উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের। যে কারণে যথাযথ মান অনুসরণও হচ্ছে না এগুলোতে।
গত মঙ্গলবার সকালে সরোজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারেই প্রয়োজনীয় জনবল এবং যন্ত্রপাতি নেই। বিশেষ করে ক্লিনিক বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের জন্য পৃথক করে কোনটি নির্মাণ করা হয়নি। কখনও একটি দোকান ভাড়া নিয়ে আবার কোন কোনটি বাড়ি ভাড়া নিয়েই তৈরি হয়েছে। কুয়েট গেটের একটি ক্লিনিক সম্প্রতি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একটি ভাড়া বাড়িতে আপাতত সেটি স্থাপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটির মালিক এ প্রতিবেদককে বললেন, কুয়েট গেটে ভবন করে ক্লিনিকটি সেখানে স্থানান্তর করা হবে। ওই ক্লিনিকটিতেও সম্প্রতি একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যদিও এটি দিঘলিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় কিন্তু ঘটনার সময় সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবস্থা নিতে হয় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খানজাহান আলী থানাকে। এভাবে প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেই চলছে দিঘলিয়া উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন প্রাইভেট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো।
ফুলবাড়িগেটের অপর একটি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক একজন আইনজীবী। ডার স্ত্রী গাইনী সার্জন। অনেকটা একাই পরিচালনা করেন সেটি। ‘সব ধরনের অপারেশন সেখানে হয়’ ভিজিটিং কার্ডে উল্লেখ থাকলেও এনেসথেসিয়ার ডাক্তারের নাম জানাতে পারেননি সেখানকার ম্যানেজার।
পাশেই রয়েছে একটি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিকেল টেকনোলজি করা এক ব্যক্তির মালিকানাধীন প্যাথলজী এন্ড কনসালটেশন সেন্টার। টিনসেডের একটি ভাড়া ঘরে স্থাপিত ও প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনকালে মালিক বললেন, তিনি নিজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন। প্যাথলজীক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেখানে যেমন হয় তেমনি ডিজিটাল এক্স-রে করানো হয় পাশের ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে। আর থাইরয়েডের পরীক্ষা ঢাকা থেকে করিয়ে আনা হয় বলেও তিনি জানান।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের একজন চিকিৎসক বসেন কুয়েট রোডের অপর একটি ল্যাব: এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে। যার মালিক একজন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট। এক্স-রে’র জন্য রয়েছেন একজন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট(রেড্রিগ্রাফি)। এ প্রতিবেদকের পরিদর্শনকালে শুধুমাত্র রেডিওগ্রাফি ও একজন রিসেপশনিষ্ট ছাড়া অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে অবস্থান করছিলেন কয়েকজন রোগী।

একই রোডের অপর একটি চারতলা বাড়ির নিচতলা ও দোতলা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি হেলথ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। একজন অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এর সার্বক্ষণিক চিকিৎসক। তবে সেটি একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। খুলনার স্বাস্থ্য পরিচালকের আওতাধীন একটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান যেমন ওই ক্লিনিক মালিকের স্ত্রী তেমনি খুলনার সিভিল সার্জনের আওতাধীন অপর এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীও সেখানে নিয়মিত রোগী দেখেন ও অপারেশন করেন। এজন্য বাইরের কোন চিকিৎসক সেখানে প্রয়োজন হয়না বলেও পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জানান। যদিও পরিদর্শনকালে সেখানে কোন ডাক্তারকেই পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগের সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিলক্ষিত হয় নগরীর দৌলতপুর থানাধীন পাবলা ২ নম্বর ক্রস রোডের বিদেশী সংস্থা পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। ওই প্রতিষ্ঠানটি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কারিগরি সহায়তা পাওয়া ছাড়াও কেসিসির ইপিআই কর্মসূচি যেমন বাস্তবায়ন করে তেমনি পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি দেখভাল করে দিঘলিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস। আবার এটি একটি দাতব্য চিকিৎসালয় হিসেবে পরিচালিত হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় নেয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে জটিলতা। কেননা সেখানে সরকারের সব ধরণের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় এবং কোন প্রকার বেড না থাকলেও হাসপাতাল হিসেবেই রেজিষ্ট্রেশন নিতে হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে অনেক সময় জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাত ঘটে বলেও সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সেখানকার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হাফিজ আল আসাদ বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে দিঘলিয়ার দু’টি ইউনিয়ন পড়েছে। যেখানকার শিক্ষা বিভাগটি দেখভালের দায়িত্ব সদর শিক্ষা বিভাগের, আইন-শৃংখলার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কেএমপির, স্বাস্থ্য বিভাগ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণে আর জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখে উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস। তাছাড়া ওই দু’টি ইউনিয়নের মানুষ মনেই করে না যে, তারা দিঘলিয়া উপজেলার মানুষ। তারা সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা এটিই তাদের কাছে মনে হয়। এছাড়া ওই এলাকায় কোন মোবাইল কোর্ট করতে গেলে কেএমপির সহযোগিতা নিতে হয়। দিঘলিয়া উপজেলার সীমানায় পড়লেও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি শায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে কিছু একটা সংকট থাকলেও এটি অনেকটা মানিয়ে গেছে।

স্যোসিয়াল মিডিয়াতে শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর...